ক্যালশিয়ামের
প্রয়োজনীয়তা:
আমাদের শরীরে যে খনিজ
পদার্থগুলির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, তারই মধ্যে পড়বে ক্যালশিয়াম৷ আমাদের হাড়ের কাঠামো তো বটেই,
পেশিগুলিকে সচল রাখতে বা
নার্ভাস সিস্টেমকে কার্যকর রাখতেও ক্যালশিয়ামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ ক্যালশিয়াম
ছাড়া ভিটামিন এ, ডি,
ই আর কে-র মতো ফ্যাট সলিউবল
ভিটামিনগুলির আত্তীকরণ হবে না শরীরে৷ তাই খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালশিয়াম
আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখে নিতে হবে৷ মনে রাখবেন, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন 1000
মিলিগ্রাম ক্যালশিয়ামের প্রয়োজনীতা
আছে৷ জেনে নিন কোন কোন খাবার থেকে আপনি সর্বাধিক ক্যালশিয়াম পেতে পারেন৷
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন
খাবার
দুধ
ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবারে সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দুধ, দই, মাখন, টফু
এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
গরু, খাসি
ও মুরগির মাংস, ডিম,
কলিজা, এবং
ছোট মাছের কাঁটায়ও রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। তবে মাছের মধ্যে মলা, কাচকি, মাগুর, শিং, কই, কোরাল
ও সামুদ্রিক মাছে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ তুলনা মূলকভাবে বেশি থাকে।
শাকসবজির
মাঝে কচুর শাক, পালং শাক,
কলার
মোচা, কাঁচকলা, কচুর লতি, চালকুমড়া, কচু, শালগম, সজনে
ডাঁটা, বাধাকপি, মটরশুঁটি, মিষ্টি
আলু, মাশরুম, লেটুসপাতা, ঢেঁড়স, ধনেপাতা, ধুন্দুল, করলা
ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।
ক্যালসিয়ামের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস সাইট্রাস জাতীয় ফল। কমলালেবু, পেয়ারা, কাঠবাদাম, তরমুজ, জলপাই, কাজুবাদাম, আপেল, আখরোট
বাদাম, খেজুর, কলা, পাকা
পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর, কাঁঠাল, লিচু, আম, জাম, স্ট্রবেরি
ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাদা
ভাত, কাবলি ছোলা,
মটরশুটি, তিল
ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা আমাদের দেহের হাড় মজবুতে
সহায়তা করে থাকে।
হাড়ের অসুখ ঠেকাতে এখন
থেকেই পাতে রাখুন এ সব খাবার
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি ডেকে আনে হাড়ের অসুখ।
একটা বয়সের পর হাঁটু-কোমরে যন্ত্রণা আজকাল স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দু’পা হাঁটলে বা একটু বেশি কায়িক
শ্রমেই জানান দিচ্ছে শরীর। গাঁটে ব্যথার মতো নিরীহ রোগ কিংবা অস্টিওপোরোসিসের মতো জটিল
অসুখের হানা প্রায় ঘরে ঘরে। চিকিৎসকদের মতে,
সময়
থাকতে হাড়ের কথা ভাবলে বয়সকালে সমস্যা অনেকটা এড়ানো যায়। শরীরে ক্যালসিয়ামের
ঘাটতি হাড়ের সমস্যার অন্যতম কারণ।
শরীরে যে সব খনিজ পদার্থের প্রয়োজনীয়তা আছে তার মধ্যে অন্যতম ক্যালসিয়াম। হাড়ের কাঠামোকে দৃঢ় রাখার
মূল উপাদান হল ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া পেশি সচল রাখা, নার্ভাস
সিস্টেমকে কার্যকর রাখতেও ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরে ক্যালসিয়াম ছাড়াও
ভিটামিন এ, ডি,
ই
এবং কে-র মতো ফ্যাট সলিউবল ভিটামিনগুলোর আত্তীকরণ সম্ভব নয়। তাই রোজের খাদ্যতলিকায়
ক্যালসিয়াম থাকা খুব প্রয়োজন।
এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতি দিন এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের
প্রয়োজনীয়তা আছে। অনেক সময়ই হাড়ের সমস্যার জন্য ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু আধুনিক
চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্যালসিয়ামের জন্য ওষুধ খাওয়াকে খুব একটা সমর্থন করে না। বরং
চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের মাধ্যমে দেওয়া ক্যালশিয়াম বেশি পরিমাণে
খেলে তা শরীরে সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে শেষে কিডনিতে গিয়ে জমা হয়। তা থেকে
পাথর হতে পারে। তাই হাড়ের সমস্যা রুখতে ছোট বয়স থেকেই পাতে থাকুক ক্যালসিয়াম
সমৃদ্ধ খাবার।
লবণ খাওয়া কমান
বেশি লবণ খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। এটি
ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। লবণ ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াও বাদ দিন।
এতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না। শরীরে ক্যালসিয়ামও বাড়বে।
*নিয়মিত খান এই ৬ ধরনের খাবার, সহজেই মিটবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি*
১) দুধ: দুধে প্রচুর ক্যালশিয়াম থাকে,
এ তথ্য আমাদের সবার জানা৷ এক
কাপ মাঠাযুক্ত দুধে আপনি আন্দাজ 270 মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাবেন৷ সঙ্গে ভিটামিন ডি আর এ-ও মেলে৷
সোয়াবিন পিষে নিষ্কাশিত দুধের এক কাপে 200 মিলিগ্রামের কাছাকাছি ক্যালশিয়াম মিলবে৷
যাঁরা ভেগান বা দুধ হজম করতে পারেন না, তাঁরাই সোয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক বা নারকেলের দুধের দ্বারস্থ হোন৷
২) দই: যাঁরা দুধ হজম করতে পারেন না,
তাঁদের জন্য আদর্শ অপশন হচ্ছে
দই৷ এক কাপ দইয়ে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ আন্দাজ 280-290 মিলিগ্রামের কাছাকাছি৷ তবে এ ক্ষেত্রেও
ফুল ফ্যাট দুধের দই সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ৷ এর মধ্যে যে ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে,
তা হজমের পক্ষেও সহায়ক৷
৩) কাঠ বাদাম:
কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে থাকে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ১০০ গ্রাম কাঠ বাদামে প্রায় ২৬৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
তাই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন পাতে রাখুন এক মুঠো কাঠ বাদাম।
৪) সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি: পালং, সরষে, নটে শাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, ফুলকপি ইত্যাদিতেও ক্যালশিয়ামের জোগান ভালোই৷ তবে এই ধরনের
আনাজপাতি অতি অবশ্যই খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তবেই খাওয়া উচিত৷
৫) ঢ্যাড়স: ৫০
গ্রাম ঢ্যাড়স বা ভেন্ডিতে প্রায় ১৭২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তাই শরীরে
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে পাতে রাখুন ঢ্যাড়স। উপকার পাবেন।
৬) ডাল: সোয়াবিন, রাজমা, ছোলা, সোয়াবিনের দানা, নানা ধরনের ডালেও প্রচুর ক্যালশিয়াম মেলে৷ এক কাপ রান্না
করা মুগ ডালে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ আন্দাজ 270 মিলিগ্রাম৷
৭) লেবু: কমলালেবু, মুসম্বি, পাতিলেবুর মতো যে
কোনও লেবুতেই থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড আর ভিটামিন সি যা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি
দ্রুত মেটাতে সাহায্য করে।
৬) তিল:
তিল বীজে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন,
১০০ গ্রাম কাঁচা তিলের বীজে ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
টিপস: অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম থেকে কনস্টিপেশন হতে
পারে, কিডনিতে স্টোন
জন্মানোও বিচিত্র কিছু নয়৷ আয়রন ও জ়িঙ্কের সংশ্লেষেও বাধা সৃষ্টি করে
ক্যালশিয়ামের বাড়াবাড়ি৷
শরীরের নানা অঙ্গে
ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে নিন
প্রত্যেকটি মানুষই ছোট-বড় নানা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। কখনও
কোনও আঘাত থেকে আমরা ব্যথা অনুভব করি, কখনও
আবার মাত্রাতিরিক্ত খাটনির ফলে শরীরের নানা জায়গায় বেদনা অনুভূত হয়। আমরা
সচারচর দাঁতে ব্যথা, মাথা ব্যথায় পেইনকিলার খেয়ে ব্যথা কমানোর
চেষ্টা করি। তবে তা কখনই সমাধান হতে পারে না। কারণ এসব ওষুধের নানা
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় যা শরীরের জন্য খুব খারাপ। তাই ব্যথার কারণ খুঁজে বের করাই
উত্তম। না পারলেও ব্যথার ধরণ বুঝে ঘরোয়া ভেষজ চিকিৎসা করা যেতে পারে।
মাংসপেশির ব্যথা : শরীরের কোথাও জ্বালা বা মাংসপেশিতে ব্যথা
অনুভূত হলে হলুদ ব্যবহার করুন। হলুদ গুলে নিয়ে তা ব্যথার জায়গায় লাগাতে পারেন অথবা
দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। হলুদে রয়েছে ব্যথা প্রশমনকারী উপাদান যা শরীরের
ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলিকে সারিয়ে তুলে ব্যথা কমাতে পারে।
পায়ে টান : অনেক সময়ে আমাদের পায়ে টান ধরে। অনেকের মাঝে মাঝেই এই
সমস্যা হয়। নিয়মিত টমেটো জুস খেলে তা অনেকটা কমে যায়। টমেটোয় রয়েছে পটাশিয়াম, যার
ঘাটতি হলেই এমন সমস্যা দেখা দেয় শরীরে।
সাধারণভাবে শরীরের কোথাও ব্যথা হলে: সাধারণত শরীরে
ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলেই নানা জায়গায় টান ধরে, ব্যথা
হয়। এজন্য ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি,
মাছ, বাদাম, ডার্ক
চকোলেট ইত্যাদি খাওয়া প্রয়োজন।
মূত্রনালীর সংক্রমণ : মূত্রনালীর সংক্রমণে ব্লুবেরি জাতীয় ফল
অত্যন্ত উপকারী। এই ফল ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে যা ওই জায়গা সংক্রামিত করার চেষ্টা
করে।
গলা ব্যথা : গলা ব্যথায় পেপারমিন্ট দেওয়া চা খান। এতে গলা
ব্যথা প্রশমিত হবে ও গলায় আটকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।
বাতের ব্যথা: একটু বয়স হলেই বহু মানুষ বাতের ব্যথায়
আক্রান্ত হন। এক্ষেত্রে আদা দেওয়া চা বেশ কিছুটা উপকার দেয়। বিভিন্ন জায়গায় গাঁটের
ব্যথা কমানোয় তা অত্যন্ত কাজে দেয়। একইসঙ্গে তা মাংসপেশিকে নরম করে টান ধরা থেকে
বাঁচায়।
দাঁত ব্যথা : দাঁত ব্যথায় লবঙ্গ বা লবঙ্গ তেল খুব কাজে দেয়।
লবঙ্গে রয়েছে এমন উপাদান যা ওই জায়গায় নার্ভকে অবশ করে দিয়ে দাঁতের ব্যথা কমিয়ে
দেয়।
বুক জ্বালা : পেটে গ্যাস বা অ্যাসিড হলে বুক জ্বালা হয়। এক
গ্লাস জলে এক চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার দিয়ে তা খেলে বুক জ্বালা কমে যাবে।
ঘাড়ের টিস্যুতে ব্যথা: ঘাড়ের পাশাপাশি শরীরের নানা জায়গার টিস্যুতে
ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এক্ষেত্রে চেরি ফল খাওয়া অভ্যাস করলে তা কমে যাবে। চেরির
মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান শরীরের নানা নরম জায়গার টিস্যুর ব্যথা কমিয়ে দিতে
পারে।










শরীরের ব্যথা দূর করে যেসব খাবার
আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের মানুষ দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা বহন
করে চলেছে বহুদিন ধরে । সাধরণত পিঠ, কাঁধ, হাঁটু, মাথা ও শরীরের অন্যান্য কিছু অংশে প্রদাহজনিত কারণে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা হতে
দেখা যায়। প্যারাসিটামল বা এ জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকেন যা স্বাস্থ্যের জন্য
ক্ষতিকর। অনেক খাদ্যই আছে যেগুলো ওষুধের থেকে বেশি কার্যকরী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
এই ব্যাথার নাশক হিসেবে কিছু খাদ্য উপাদানের কথা জানিয়েছেন। জেনে নিন কি কি খাদ্য
উপাদান যা আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম।
হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন উপাদান প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ
করে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কমাতে এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে
নিয়মিত পান করুন।
রসুনের মধ্যে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান সালফার। এটি রোগ
প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং পেশী ও গাঁটের ব্যথা ও ফোলা ভাব কমাতে উপকারী। এজন্য
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়া ভালো। এছাড়া
আক্রান্ত স্থানে রসুন-তেল গরম করে নিয়মিত মালিশ করতে পারেন।
পেঁয়াজ প্রদাহরোধী হিসেবে খুবই উপকারী। এটি শরীরের বিভিন্ন
অংশের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া পেঁয়াজ এর মধ্যে রয়েছে
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী।
আদার মধ্যে থাকা প্রদাহরোধী উপাদান জিনজেরলস ব্যথা ও প্রদাহ
কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কমাতে কয়েকটি আদার টুকরো চিবিয়ে
খেতে পারেন অথবা নিয়মিত আদা চা পান করতে পারেন।
আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে যে সব সামুদ্রিক মাছে তেলের
পরিমাণ বেশি সেগুলো খান। যেমন, স্যামন, সার্ডিন বা টুনা। কারণ সামুদ্রিক মাছের ওমেগা ৩ ফ্যাট ব্যথা
কমায়। দেশি মাছের মধ্যে পাঙ্গাশ, বোয়াল, রূপচাঁদা বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ খাওয়া যেতে পারে। তিসির
তেল,
ক্যানোলা তেল, আখরোটেও ওমেগা ৩ ফ্যাট থাকে। মাছে বিদ্যমান ফ্যাটি এসিড ইপিএ এবং ডিএইচএ এর
পেটের অন্ত্রের প্রদাহ জনিত সকল রোগ দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ আকারে মাছের তেল পাওয়া যায় সেগুলো খেতে পারেন।
শরীরের অভ্যন্তরে প্রহরী হিসেবে কাজ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
আর পলিফেনলের মত কিছু উপাদান। আপেল, ব্লুবেরি আর সবুজ শাক ও পাতাওয়ালা সবজীতে এসব উপাদান থাকে। যা ব্যথা এবং
ব্যথার সম্ভাবনাকেও কমায়। পায়ের গিঁট বা গেঁট বাতের ব্যথা কমাতে চেরী ফল অনেক বেশি
কার্যকরী। চেরীতে অ্যান্টি – ইনফ্লামেন্টরী
এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান ব্যথার উপশম করে।
এক গবেষণা থেকে জানা যায়, কফি পানে ব্যায়ামজনিত ব্যথা দূর হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন পান করলে মাথাব্যথা, মাইগ্রেইনের ব্যথা অনেক কমে, তবে সেটা দীর্ঘসময়ের জন্যে নয়।
শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন
করে ওটস। এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক রয়েছে। দিনে এক কাপ আঙ্গুর
খেলে পৃষ্ঠশূল উপশম হয়। আঙুরের রস বা আঙুর ধমনীর আড়ষ্টতা দূর করে।
চেরি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এটি ব্যথা সারাতে সবচেয়ে
উপকারী ওষুধ হিসেবে কাজ করে। জ্বালাপোড়া থেকে সৃষ্টি ব্যথা ডার্ক চেরি খেলে দূর
হয়। তবে শুধু চেরিই নয়; ব্যথা প্রতিরোধী হিসেবে অন্যান্য কালো ফলও
উপকারী। গ্যাস্টিকের ব্যথা ও অন্যান্য জ্বালাপোড়ার প্রদাহ থেকে সৃষ্ট ব্যথা ২০টি
চেরি ফল খেলেই অনেকটা কমে যাবে।
পেতে এক ধরনের এনজাইম রয়েছে যেটা প্রদাহ দূরীকরণে সাহায্য
করে। সার্জারির ব্যথা কমাতেও পেঁপে জুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এর
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন শরীরের অন্য ব্যথা কমাতেও কাজ করে।
লাল মরিচে ক্যাপসাইসিন নামের একটি পদার্থ রয়েছে যেটি ব্যথা
দূর করতে খুবই কার্যকর।
দইয়ে মাইক্রো-ফ্লোরা নামে একটি উপাদান আছে, যা প্রদাহ এবং বদহজমের কারণে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা
কমাতে সাহায্য করে।
তিল বীজও ব্যথা সারাতে ভালো কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে
ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা মাথা ব্যথা ও মাংস পেশীর ব্যথা অনায়াসে
দূর করতে সাহায্য করে।
পুদিনা পাতায় মেনথল নামে একটি উপাদান আছে, যা ধনুষ্টংকার রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া,
এর তেল পায়ের কজ্বি ও গোড়ালীতে মালিশে ব্যথা
উপশম হয়। এমনকি মাথা ব্যথায় পুদিনা পাতা কপালে ঘষলেও ব্যথা উপশম হয়।
অ্যালোভেরা জেল পোড়ার ব্যথা উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। আর এর জুসও আলসারের ব্যথা উপশমে কার্যকরী। দিনে ২বার অ্যালোভেরা পানে
শুধুমাত্র এর উপসর্গই উপশম করে না; নিরাময়ের কাজও দ্রুত শেষ করে।
এছাড়া টমেটো, অলিভ অয়েল, সবুজ শাক, বিশেষ করে জামের মতো ফল, আনারস, গ্রিন টি, কমলা, আখরোট বা কাঠবাদাম খাবারগুলো নিয়মিত খান। এগুলো ব্যথা দূর
করে। পরিবর্তনটা নিজেই লক্ষ করে দেখুন।
প্রক্রিয়াজাত সব ধরনের খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। ওজন বাড়লে
বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর চাপ বাড়ে, ফলে ব্যথাও বাড়ে। তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে বুঝে শুনে খান, ভালো এবং সুস্থ থাকুন।
ব্যথা
কমানোর ৩ উপায়
অধ্যাপক শামসুন নাহার
ব্যথা হলেই ব্যথানাশক ওষুধ
লাগবে, এ কথা
ঠিক নয়। ব্যথার ওষুধ সাময়িক আরাম দেবে বটে কিন্তু এটা মূল চিকিৎসা নয়। ব্যথানাশক
ওষুধের নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সাধারণত মাংসপেশি এবং অস্থিসন্ধির
সমস্যায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়ে ব্যথা
উপশমের অন্যান্য পদ্ধতি বেশি কার্যকর হতে পারে।
শরীরচর্চা বা ব্যায়াম: কাঁধ, কোমর, হাঁটু বা গোড়ালির ব্যথা
উপশমের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যায়াম। চিকিৎসকের পরামর্শমতো এসব ব্যায়াম শিখে নিয়ে
বাড়িতেই নিয়মিত চর্চা করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটাচলা ও খানিকটা দৌড়ঝাঁপ শরীরের হালকা
ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। ওজন কমালেও অনেক সময় হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কমে।
গরম সেঁক: গরম সেঁক দিলেও ব্যথা কমে।
আক্রান্ত স্থানে দিনে দুবার গরম সেঁক দেওয়া যাবে। প্রতিবার ১৫-২০ মিনিট ধরে সেঁক
দেওয়া যাবে। শীতের সময় সারা দিনে তিনবারও গরম সেঁক দিতে পারেন।
ঠান্ডা সেঁক: দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে বরফ বা
ঠান্ডা পানি ব্যবহারেও উপকার পেতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রে রোগী আঘাত পাওয়ার সঙ্গে
সঙ্গেই আঘাতের ব্যাপকতা না-ও বুঝতে পারেন। তাই বরফ বা ঠান্ডা পানি ব্যবহারের পর
ব্যথা উপশম হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নানা ধরনের বাত ও রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা
রয়েছে। রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াটা উত্তম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যথানাশক খাওয়া যাবে বটে, তবে নিজে না বুঝে খাওয়াটা
ঠিক নয়।
চেয়ারম্যান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
Comments
Post a Comment